চাষি দম্পতির ছিল এক সহজ-সরল মেয়ে। মেয়েটির বাবা-মা জুমচাষের জন্য সেই ভোরে বেরিয়ে যেত আর কাজ শেষে ফিরত সন্ধ্যায়। তারা তাকে ঘর পাহারা দেওয়া ও অন্যান্য কাজের দায়িত্ব দিয়ে রেখে যেত। একবার ধান শুকাতে গিয়ে মেয়েটি দেখল, একদল হলুদ ও সাদা টিয়া পাখি সব ধান খেয়ে ফেলছে। অনেক অনুরোধ করেও সে তাদের থামাতে পারল না। পরপর কয়েক দিন একই ঘটনা ঘটায় বাবা-মা রেগে গিয়ে মেয়েটিকে তাড়িয়ে দিল। সে তখন খোঁজ খবর নিয়ে টিয়াদের রাজ্যে পৌঁছালে সম্পদশালী টিয়া পাখিরা তাকে অনেক আদর-যত্ন করল। কিন্তু মেয়েটি লোভ না করে সাদাসিধে জিনিস বেছে নিল। টিয়া পাখিরা খুশি হয়ে তাকে সাত কলস সোনার ও রূপার মোহর দিয়ে তার বাবা-মায়ের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করল। বাবা-মাও ভীষণ খুশি হলো। এই খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ায় কেউ খুব অবাক হলো, কেউ-বা হিংসা করতে শুরু করল। কারো আবার ভীষণ লোভ হলো। এরকমই এক লোভী পরিবার তাদের মেয়েকে তাড়িয়ে দিল সোনা-রূপা পাওয়ার লোভে। সে টিয়া পাখিদের রাজ্যে পৌঁছে লোভ সামলাতে পারল না। তার আচরণ দেখে টিয়া পাখিরা সব বুঝতে পারল। তখন সাতটি কলসের মুখ বেঁধে তারা মেয়েটিকে বলল, বংশের সব আত্মীয় স্বজনকে নিয়ে যেন কলসের মুখ খোলা হয়। বাড়ি ফিরে সবাইকে জড়ো করে মেয়েটি যখন কলসের মুখ খুলল, তখন কলস থেকে বিভিন্ন জাতের সাপ বের হয়ে সবাইকে কামড়ে মেরে ফেলল। এভাবে মেয়েটির পুরো পরিবার নির্বংশ হয়ে লোভের শাস্তি ভোগ করল।
গল্পটিতে সৎ ও নির্লোভ মানুষের জীবনে শেষপর্যন্ত শান্তি-স্বস্তি ফিরে পাওয়া এবং লোভী মানুষের নির্মম পরিণতি দেখানো হয়েছে।
Read more